চলতি নোটিসঃ
রাজবাড়ী সার্কেল | একই সুতোয় গাঁথা প্রাণ | সার্কেল ফাউন্ডেশন দিচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র এক টাকায় খাতা, এক টাকায় কলম [বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন]। রাজবাড়ী সার্কেল আয়োজিত রাজবাড়ী জেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকের সম্মানে মানুষের জন্য সাংবাদিকতা অ্যাওয়ার্ড ২০২২। [বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন]
  • 01920671314
  • info@rajbaricircle.com
  • ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন | মঙ্গল | ২৯ নভেম্বর ২০২২
রাজবাড়ী ও মীর মশাররফ হোসেন, কালজয়ী উপন্যাস বিষাদ সিন্ধু’র রচয়িতা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির পদমদীতে পৈতৃক নিবাসে অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছেন বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও বাঙালি মুসলিম সাহিত্যিক, বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন। এখানেই মীর মশাররফ হোসেন তার জীবনের উল্লেখযোগ্য কাব্য, উপাখ্যান, উপন্যাস, নাটক, আত্মজীবনী, অনুবাদ ও প্রবন্ধ রচনা করেন।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রাম। কালজয়ী উপন্যাস ‘বিষাদ সিন্ধু’র রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের সমাধিস্থলকে ঘিরে এ গ্রামটি এখন বাংলাদেশের অনেকেরই চেনা। ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর পদমদীতে মৃত্যুবরণের পর এখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। বাংলা একাডেমীর তত্ত্বাবধানে এখানে নির্মিত হয়েছে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র।

মীর মশাররফ হোসেনের সমাধিস্থ

মীর মশাররফ হোসেনের সমাধিস্থল

মীর মশাররফ হোসেনর জন্ম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর একটি ছোট গ্রাম লাহিনিপাড়ায়। তার পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। মাতার নাম দৌলতন নেছা। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়। পরে পাঠশালায় গিয়ে তিনি বাংলা ভাষা শেখেন। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় কুষ্টিয়া স্কুলে। পরে তিনি কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করে কলকাতার কালীঘাট স্কুলে ভর্তি হন; কিন্তু লেখাপড়া আর বেশি দূর অগ্রসর হয়নি।

কর্মজীবনের শুরুতে মশাররফ হোসেন পিতার জমিদারি দেখাশুনা করেন। পরে তিনি ফরিদপুর নবাব এস্টেটে চাকরি নেন এবং ১৮৮৫ সালে দেলদুয়ার এস্টেটের ম্যানেজার হন। এক সময় এ চাকরি ছেড়ে তিনি লাহিনীপাড়ায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং পরে ভাগ্যান্বেষণে কলকাতায় গিয়ে ১৯০৩-০৯ পর্যন্ত অবস্থান করেন।

মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র (১৮৬৩) মফস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন। মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি একে একে কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।


মীর মশাররফ হোসেন লিখিত গ্রন্থ যথাঃ
১. রত্নবতী (উপঃ ১৮৭৩)
২. বসন্ত কুমারী (নাটক ১৮৭৩)
৩. জমিদার দর্পণ (নাটক ১৮৬৯)
৪. গড়াই ব্রীজ বা গৌড়ী সেতু (কবিতা গ্রন্থ ১৮৭৩)
৫. এর উপায় কি (প্রহসন ১৮৭৬)
৬. বিষাদ-সিন্ধু (ঐতিহাসিক উপন্যাস ১৮৮৫-৯১)
৭. সঙ্গীত লহরী (১৮৮৭)
৮. গো-জীবন (প্রবন্ধ ১৮৮৯)
৯. বেহুলা গীতাভিনয় (গীতিনাট্য ১৮৮৯)
১০. উদাসীন পথিকের মনের কথা (জীবনী ১৮৯৯)
১১. গাজী মিয়ার বস্তানী (রম্যরচনা ১৮৯৯)
১২. মৌলুদ শরীফ (গদ্যে-পদ্যে লিখিত ধর্মীয় গ্রন্থ ১৯০০)
১৩. মুসলমানের বাঙ্গালা শিক্ষা (ছাত্র পাঠ্য ১ম ভাগ ১৯০৩ এবং দিত্বীয় ভাগ ১৯০৮)
১৪. বিবি খোদেজার বিবাহ (কাব্য ১৯০৫)
১৫. হযরত ওমরের ধর্ম জীবন লাভ (কাব্য ১৯০৫)
১৬. হযরত বেলালের জীবনী (প্রবন্ধ ১৯০৫)
১৭. হযরত আমীর হামজার ধর্ম জীবন লাভ (কাব্য ১৯০৫)
১৮. মদিনার গৌরব (কাব্য ১৯০৬)
১৯. মোশ্লেম বীরত্ব (কাব্য ১৯০৭)
২০. এসলামের জয় (প্রবন্ধ গ্রন্থ ১৯০৮)
২১. আমার জীবনী (আত্মজীবনী ১৯০৮-১০)
২২. বাজীমাত (কাব্য ১৯০৮)
২৩. হযরত ইউসোফ (প্রবন্ধ গ্রন্থ ১৯০৮)
২৪. খোতবা বা ঈদুল ফিতর (কাব্য ১৯০৮)
২৫. বিবি কুলসুম (জীবনী ১৯১০) ইত্যাদি।

তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে। তাঁর জমিদার দর্পণ নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।

মশাররফ হোসেন গতিশীল গদ্য রচনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন। নাটক ও আত্মজৈবনিক উপন্যাসগুলিতে তিনি সমকালীন সমাজের অসঙ্গতি ও সমস্যার ওপর তীক্ষ্ণ কটাক্ষপাত করেন। তিনি সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে মুক্ত ছিলেন। উদার দৃষ্টিকোণ থেকে ‘গোকুল নির্মূল আশঙ্কা’ প্রবন্ধ লিখে তিনি স্বসমাজ কর্তৃক নিগৃহীত হন। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আমা‌দের সা‌থে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
Rajbari Circle || একই সুতোয় গাঁথা প্রাণ