চলতি নোটিসঃ
সবাইকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ✱ সার্কেল ফাউন্ডেশন দিচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র এক টাকায় খাতা, এক টাকায় কলম [বিস্তারিত] ✱ রাজবাড়ী সার্কেলের মূল ওয়েব সাইট উন্নতকরণ চলছে সুতরাং স্বেচ্ছাসেবক রেজিস্ট্রেশন সহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীন কাজে বিশেষ অসুবিধা হওয়ায় টিম রাজবাড়ী সার্কেল আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছে। শিগ্রই উন্নতকরণের কাজ শেষ হবে। -টিম রাজবাড়ী সার্কেল।
  • 01920671314
  • rajbaricircle@gmail.com
  • ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন | বুধ | ১৮ মে ২০২২
জোড় বাংলা মন্দির
দর্শনীয় স্থান সমূহ

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর আকর্ষণ সমূহ:

  • পদ্মা নদী: নদীভ্রমণ পিপাসুদের জন্য পদ্মা নদী পর্যটন আকর্ষণের অনন্য কেন্দ্রবিন্দু। রাজবাড়ীর উত্তর দিকের পুরো অংশ জুড়েই পদ্মা নদীর অবস্থান। ফলে রাজবাড়ীতে আগত পর্যটকবৃন্দ সহজেই পদ্মায় ভ্রমণের সুযোগ পান।
  • রাজবাড়ী শহর সংলগ্ন গোদার বাজার নৌ বন্দর :পদ্মার তীরবর্তী এ স্থানটিতে সার্বক্ষণিক পদ্মার মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হয়। ফলে প্রাত্যহিক ভ্রমণে এটি একটি আদর্শ জায়গা।
  • গোয়ালন্দ ঘাট: দক্ষিণাঞ্চলের ২১ টি জেলাকে রাজধানীর সাথে যোগাযোগ ঘটিয়েছে এই গোয়ালন্দ ঘাট। এখনকার ফেরি ঘাট একটি ব্যস্ত কর্মচঞ্চল এলাকা। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, বরিশাল পদ্মা নদী দ্বারা বিভক্ত। ঢাকা হতে দক্ষিণাঞ্চলে এসব জেলায় পৌঁছাতে হলে দৌলতদিয়া ঘাট অতিক্রম করা অপরিহার্য। ব্রিটিশ ভারতে গোয়ালন্দ বাংলার পশ্চিম আর পূর্বের সেতু বন্ধন হিসেবে বাংলার দ্বার নামে পরিচিত ছিল। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার সেতুবন্ধন হিসেবে দৌলতদিয়া ঘাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এ ঘাট পার হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করে।
  • পদ্মার চর  জলমহাল: পদ্মার বুকে রয়েছে অনেক চর ও জলমহাল। এসব চরের নৈসর্গিক দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম। শীতকালে এসব চর হয়ে ওঠে আকর্ষণীয় পিকনিক/পর্যটন স্পট।
  • রূপালী ইলিশ: পদ্মার ইলিশ ভোজন রসিকদের কাছে পরম লোভনীয় ।
  • প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু: দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে এ সেতু কেন্দ্রিক ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

রাজবাড়ী জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থানসমূহ:

 ১। রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবনঃ রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক বছরের প্রাচীন লাল ভবনটি রাজবাড়ী জেলার একটি অন্যতম পূরাকীর্তি। ১৮৭৮ সালে গোয়ালন্দ হাই ইংলিশ নামে এ স্কুলটি লাল ভবনে তত্কালীন জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার ও তার ভাই অভয় শংকর মজুমদার প্রতিষ্ঠা করেন। ইতোমধ্যে প্রত্নতত্ত অধিদপ্তর এই স্থাপনাকে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

২। মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র: বিষাদ সিন্ধু খ্যাত মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি বিজড়িত পৈত্রিক নিবাস পদমদীতে মীর মশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর সমাধিকে ঘিরে ১৯৯৯ সালে তৈরী করা হয় মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন দুই কোটি তিপান্ন লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা ব্যয়ে দুই একর জমির উপর স্মৃতি কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। নির্মিত এই স্মৃতি কেন্দ্রে একটি পাঠাগার, একটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অতিথি কক্ষ, সভা কক্ষ, মিউজিয়াম, ডাইনিং রুম প্রভৃতি তৈরী করা হয়েছে। মীরের আবক্ষ মূর্তি যে কোন দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ স্মৃতি কেন্দ্রে মীর ভক্তদের পাশাপাশি শীত মৌসুমে প্রচুর পর্যটকের ভীড় জমে।

৩। শাহ পাহলোয়ানের মাজার: রাজবাড়ী অঞ্চলে ষোড়শ শতকে ধর্ম প্রচারের জন্য আগমন করেন শাহ পাহলোয়ান এর মত আউলিয়ারা। ১৪৮০ হতে ১৫১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে শাহ পাহলোয়ান বাগদাদ শরীফ পরিত্যাগ করে ফরিদপুর অঞ্চলে এসে চন্দনা নদীর তীরে বাসস্থান নির্মাণ করে উপাসনা করছিলেন। কথিত আছে, শাহ পাহলোয়ান মৃত্যুর সময় শিষ্যদের তাঁর কবর পূর্ব-পশ্চিম লম্বা-লম্বি দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁর শিষ্যবর্গ প্রচলিত বিধানমতে যথানিয়মে তাকে কবরস্থ করেন। কিন্তু সকালে দেখা গেল, তাঁর কবর ঘুরে পূর্ব-পশ্চিম লম্বা-লম্বি হয়ে গিয়েছে। শাহ পাহলোয়ানই রাজবাড়ী অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ভিত রচনা করে গেছেন।

৪। দাদশী মাজার শরীফ: রাজবাড়ী শহর থেকে রেল লাইন ধরে পূর্বদিকে ৩ কিঃমিঃ দূরে দাদশী খোদাই দরগা। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে কামাল শাহ নামক এক আউলিয়া ষোড়শ শতকে এতদঞ্চলে আগমন করেন। ১৮৯০ সালে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রাজবাড়ী রেল লাইন স্থাপনের সময় জঙ্গলের মধ্যে দরগাটির সন্ধান মিলে। সেই হতে দরগাটি এ অঞ্চলের মানুষ খোদাই দরগা নামে কামাল শাহ আউলিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন।

৫। জামাই পাগলের মাজার: রাজবাড়ী শহরের ৬ কিঃমিঃ দক্ষিণ-পূর্বে আহলাদিপুর মোড়ে জামাই পাগলের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে একটি শেড নির্মিত হয়। ১৯৬০ সালের দিকে জামাই পাগল নামে এক ব্যক্তিকে সেখানে নেংটি পরা অবস্থায় শেওড়া গাছের নীচে মজ্জুম অবস্থায় দেখা যেত। তাকে কেহ প্রশ্ন করলে তিনি একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করতেন। তার মৃত্যুর পর উক্ত স্থানে জামাই পাগলের মাজার নামে একটি মাজার গড়ে উঠেছে। লোকশ্রুতি আছে জামাই পাগল এক বোবা মেয়েকে পানিতে চেপে ধরে ছেড়ে দিলে সে কথা বলতে শুরু করে।

৬। নলিয়া জোড় বাংলা মন্দির: বালিয়াকান্দি থানার নলিয়া গ্রামে একটি জোড় বাংলা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এর গঠন বিচিত্র। এ মন্দিরটি ১৭০০ সালে তৈরী বলে পন্ডিতগণ মনে করেন।

৭। সমাধিনগর মঠ: (অনাদি আশ্রম): বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নে ১৯৪০ সালে স্বামী সমাধী প্রকাশরণ্য এ মঠটি নির্মাণ করেন যার উচ্চতা ৭০ ফুট (গম্বুজসহ), দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ ফুট এবং প্রস্থ ৫০ ফুট। এটি অনাদি আশ্রম বলে পরিচিত। স্বামীজী এ আশ্রমের মাধ্যমে ঐ এলাকার মানুষকে আলোর পথে অগ্রায়ণ করে গেছেন।

৮। রথখোলা সানমঞ্চ: রাজবাড়ী শহর থেকে দুই স্টেশন পশ্চিমে প্রাচীন হড়াই নদীর তীরে বর্তমান পদ্মার কাছাকাছি বেলগাছি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। বেলগাছির অদূরে হাড়োয়ায় স্থাপিত হয়েছে কষ্টি পাথরের মদন মোহন জিউর। মদন মোহন এর মূর্তিটি পাল আমলের। বেলগাছিতে রাম জীবনের নামে গড়ে ওঠে আখড়া। রাম জীবনের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে সেখানে সানমঞ্চ ও দোলমঞ্চের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।

। নীলকুঠি: ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর নীলকরদের অত্যাচার আরো বৃদ্ধি পায় এবং প্রজা সাধারণ অতিষ্ট হয়ে সংঘবদ্ধভাবে নীলকরদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়। শুরু হয় নীলবিদ্রোহ। রাজবাড়ীতে নীলবিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এ সময় বালিয়াকান্দি থানার সোনাপুরের হাশেম আলীর নেতৃত্বে শত শত চাষী নীলকর ও জমিদারদের বিরুদ্ধে নীল বিদ্রোহে অংশ নেয়। বহু স্থানে নীলকুঠি আক্রমণ করে ও কাচারী জ্বালিয়ে দেয়। এ অঞ্চলের বসন্তপুর, বহরপুর, সোনাপুর, বালিয়াকান্দি, নাড়ুয়া, মৃগী, মদাপুর, সংগ্রামপুর, পাংশার নীলচাষীরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। ফলে ১৮৬০ সালে বৃটিশ সরকার নীল কমিশন বসান এবং নীল চাষ স্বেচ্ছাধীন ঘোষণা করেন। ধীরে ধীরে কৃত্রিম নীল উদ্ভাবিত হয় এবং প্রাকৃতিক নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়।

১০। লোকেশেড: রাজবাড়ীতে সদরের লোকোশেডটি পুনরায় চালু হলে রাজবাড়ীর গুরুত্ব বাড়বে।

তথ্যসূত্র: http://www.rajbari.gov.bd/

সাম্প্রতিক ইভেন্ট সমূহ